Dr. Anjan Kumer Dev Roy

ড. অঞ্জন কুমার দেব রায়
প্রধান (অতিরিক্ত সচিব)
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন

জীবনবৃত্তান্ত ও পেশাগত সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ড. অঞ্জন কুমার দেব রায় একজন বিশিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং গবেষক, যিনি প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনীতি, পরিবেশ পরিকল্পনা এবং টেকসই জলবায়ু নীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে কর্মরত থেকে তিনি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল এবং জাতীয় টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

ড. রায় উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারণ এবং মাঠপর্যায়ের প্রায়োগিক গবেষণার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। তাঁর কাজের পরিধি দেশের অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থা, সামষ্টিক পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শকের ভূমিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডে (ইউএসকিউ) ‘অ্যাডজান্ট রিসার্চ ফেলো’ হিসেবে কাজ করেছেন এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ইউএনডিপি) পরিবেশ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর গবেষণা মূলত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন সংরক্ষণ, সম্পদের মালিকানার ধরণ (প্রোপার্টি-রাইটস রেজিম) এবং বাস্তুতন্ত্রের অর্থনৈতিক মূল্যায়নের ওপর আলোকপাত করে, যেখানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল এবং সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বন বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

ড. অঞ্জন কুমার দেব রায় অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড (ইউএসকিউ) থেকে অর্থনীতিতে ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর ডক্টরেট গবেষণার মূল বিষয় ছিল পরিবেশ পরিকল্পনা, টেকসই বন ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের মালিকানার ধরণ। পিএইচডি ডিগ্রির পাশাপাশি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তির মধ্যে রয়েছে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনীতিতে মাস্টার অব সায়েন্স (এম.এসসি.) এবং মাস্টার অব কমার্স (এম.কম.) ডিগ্রি। এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁকে করপোরেট আর্থিক নীতিমালার সাথে উন্নত পরিবেশগত অর্থনীতির এক চমৎকার সমন্বয় ঘটাতে সাহায্য করেছে।

মূল দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা

ড. রায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং জাতীয় নীতি প্রণয়নে ব্যাপক অভিজ্ঞতার অধিকারী, বিশেষ করে বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (এফওয়াইপি) এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাঠামোগত নকশা তৈরিতে তিনি দক্ষ। তাঁর প্রযুক্তিগত দক্ষতার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা (এনআরএম), যার মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠী-ভিত্তিক সংরক্ষণ, অংশীদারিত্বমূলক বনায়ন এবং বাস্তুতন্ত্রের টেকসই উন্নয়ন অন্যতম। তাছাড়া, তিনি জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন নীতি, উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং তাত্ত্বিক কাঠামোর মাধ্যমে সম্পদের মালিকানার ধরণ বিশ্লেষণে অত্যন্ত পারদর্শী, যা কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে বনের মতো গণসম্পদকে যৌথ-ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করতে সহায়তা করে।

গবেষণা প্রোফাইল ও প্রভাবের সূচক (রিসার্চগেট-এর তথ্যমতে)

রিসার্চগেটে (ResearchGate) থাকা তাঁর অফিশিয়াল প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ড. রায় বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন এবং পরিবেশ অর্থনীতিবিদদের মাঝে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর গবেষণা প্রবন্ধগুলো ২,৯৪০ বারেরও বেশি পড়া হয়েছে এবং অন্যান্য গবেষকদের লেখায় তাঁর কাজ ৩৭০ বারেরও বেশি উদ্ধৃত (সাইটেশন) হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত কাজগুলো গভীর একাডেমিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের প্রমাণ বহন করে, যেখানে তিনি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নির্ভরতার জটিল বিষয়গুলো সমাধানে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের অধ্যাপক জেফ গাউ এবং অধ্যাপক খোরশেদ আলমের মতো সুপরিচিত গবেষকদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন।

চিহ্নিত প্রকাশনা ও প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন

ড. রায়ের পিয়ার-রিভিউড (সহকর্মী গবেষক দ্বারা পর্যালোচিত) একাডেমিক পোর্টফোলিওতে সুশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর বেশ কয়েকটি উচ্চ-প্রভাবশালী জার্নাল নিবন্ধ রয়েছে। ২০১৮ সালে অধ্যাপক জেফ গাউ-এর সাথে যৌথভাবে প্রকাশিত তাঁর ‘এ ক্রিটিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট অব এমপ্লয়িং ডেমোক্রেটিক অ্যান্ড ডেলিবারেটিভ আইডিয়ালস ইন দ্য এনভায়রনমেন্টাল প্ল্যানিং প্রসেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি জাতীয় সামষ্টিক পরিকল্পনার পরিবেশগত লক্ষ্যগুলো মূল্যায়ন করেন এবং মাঠপর্যায়ের অংশীজনদের সম্পৃক্ততার ঘাটতিগুলো তুলে ধরেন। ২০১৭ সালের গবেষণাপত্র ‘অ্যান ইনভেস্টিগেশন ইনটু দ্য মেজর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ পলিসি ইস্যুজ ইন সাউথওয়েস্ট কোস্টাল বাংলাদেশ’-এ তিনি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন যে কীভাবে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব ফেলে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দিয়ে লেখা তাঁর ২০১৬ সালের কাজ ‘লোকাল কমিউনিটি অ্যাটিটিউড্স টুওয়ার্ডস ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট কনজারভেশন: লেসনস ফ্রম বাংলাদেশ’-এ সুন্দরবন সংরক্ষণে গৃহস্থালি পর্যায়ের ধারণাগুলো মানচিত্রায়নের জন্য সম্পদের মালিকানা কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে প্রকাশিত তাঁর নিবন্ধ ‘অ্যাটিটিউড্স টুওয়ার্ডস কারেন্ট অ্যান্ড অল্টারনেটিভ ম্যানেজমেন্ট অব দ্য সুন্দরবনস ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, বাংলাদেশ টু অ্যাচিভ সাসটেইনেবিলিটি’-তে তিনি বনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বেঁচে থাকা এবং রাষ্ট্রীয় বন সংরক্ষণের কাঠামোর মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক-অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। ২০১৩ সালে প্রকাশিত তাঁর মৌলিক কাজ ‘সাসটেইনেবিলিটি থ্রু অ্যান অল্টারনেটিভ প্রোপার্টি-রাইটস রেজিম ফর বাংলাদেশস ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’ এবং ২০১২ সালের ‘পার্টিসিপেটরি ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট ফর দ্য সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট অব দ্য সুন্দরবনস ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’, যা অধ্যাপক খোরশেদ আলমের সাথে যৌথভাবে লেখা, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থেকে যৌথ-মালিকানায় রূপান্তরের সম্ভাবনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণমূলক মডেলগুলো গাণিতিক ও কাঠামোগতভাবে বিশ্লেষণ করে।

নির্বাচিত কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন

ঐতিহ্যবাহী একাডেমিক জার্নালের পাশাপাশি, ড. রায় বাস্তব বিশ্বের শাসন ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত পরিকল্পনা নির্দেশনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি-নির্ধারণী প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তিনি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) থেকে সরাসরি প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অন “অ্যান ইনভেস্টিগেশন ইনটু দ্য মেজর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ পলিসি ইস্যুজ ইন সাউথওয়েস্ট কোস্টাল বাংলাদেশ”’ শীর্ষক একটি বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন তৈরি করেন, যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা এবং জলবায়ু-প্রেরিত স্থানান্তরের জন্য অত্যন্ত জরুরি নীতিগত পদক্ষেপের রূপরেখা প্রদান করেছিল। দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর বাইরেও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা সক্ষমতার প্রমাণ মেলে অস্ট্রেলিয়ার কনডামাইন অ্যালায়েন্সের সাথে প্রকাশিত তাঁর মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন ‘অ্যান ইনভেস্টিগেশন ইনটু দ্য টার্গেটেড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ইন এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট ইন কনডামাইন ক্যাচমেন্ট, অস্ট্রেলিয়া’-তে। সেখানে তিনি সুনির্দিষ্ট স্ট্রাকচার্ড র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি ব্যবহার করে যৌথ ভূমি সুরক্ষা এবং স্থানিক সম্পদ পরিকল্পনার প্রতি ভূমির মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন করেছিলেন।